• ঢাকা
  • রবিবার, ১২ চৈত্র ১৪২৯ বঙ্গাব্দ; ২৬ মার্চ, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ

Advertise your products here

Advertise your products here

ঢাকা  রবিবার, ১২ চৈত্র ১৪২৯ বঙ্গাব্দ;   ২৬ মার্চ, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ

একদিকে বলবেন অপপ্রচার রোধ করুণ - অন্যদিকে প্রচারের কন্টেন্ট এড চাঙ্ক বিক্রি করা হচ্ছে!

আবদুল্লাহ হারুন জুয়েল 
Daily J.B 24 ; প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২১ জুলাই, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ১০:৫৭ পিএম
অপপ্রচার , কন্টেন্ট,  এড চাঙ্ক ,  টিভি চ্যানেল , আওয়ামীলীগ , শেখ হাসিনা
ফাইল ছবি

 

সরকারি সুযোগ সুবিধা ভোগ করার সঙ্গে বাকি ছিল নেত্রী ও বঙ্গবন্ধুর ভাষণ এবং মুক্তিযুদ্ধ বিক্রি করা। একদিকে বলা হবে অপপ্রচার বন্ধে সচেতন সোচ্চার হন, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড প্রচার করুন; আরেকদিকে প্রচারের কন্টেন্ট এর এড চাঙ্ক বিক্রি করা হচ্ছে! 


কিছুদিন আগে বঙ্গবন্ধুর ক্লিপের কপিরাইট দাবি করার পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট রায় দিয়েছিল, কেউ বঙ্গবন্ধুর কপিরাইট দাবি করতে পারবে না। সাংবাদিক মহসিন উল হাকিম সাহেব দেখলাম বঙ্গবন্ধুর একটি বক্তব্যের কপিরাইট ও মনিটাইজেশন রাইট দাবি করছে। গত দুই মাস যাবত 'বাংলাদেশ টেলিভিশন' নামের পেইজ থেকে বিটিভির সকল ক্লিপের কপিরাইট ও মনিটাইজেশন রাইট দাবি করা হচ্ছে। বিটিভির কারা করছে এটা? কোন অথরিটিতে করছে? আমার ধারণা এটা কোনো প্রতারক চক্রের কাজ যার সঙ্গে বিটিভির কর্মকর্তারা জড়িত।


বর্তমানে আয়ের ভালো উৎস ভিডিও। কিন্তু সোশ্যাল/অনলাইন মিডিয়ায় আয় করতে চাইলে তথা মনিটাইজেশন রাইট পেতে কপিরাইটের অধিকারী ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠানকে স্বীকৃতি দিতে হবে যে, ভিডিওতে বিজ্ঞাপন প্রচার করা যাবে। 


আদালতের রায়:
বঙ্গবন্ধু এবং/অথবা মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে কারো শ্রদ্ধাবোধ থাকলে তার এ নিয়ে বাণিজ্যিক মানসিকতা থাকার কথা নয়। কিন্তু বিবেক বর্জন করে বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ সংশ্লিষ্ট অডিও/ভিডিওগুলো কপিরাইটের নামে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের অপচেষ্টা হয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালত রায় দিয়েছিল, এগুলোর কপিরাইট হবে সরকারের। বলার অপেক্ষা রাখে না, কন্টেন্ট ব্যবহারের ক্ষেত্র হবে ক্রিয়েটিভ কমন বা পাবলিক ডোমেইন কন্টেন্ট হিসেবে। 


বিজ্ঞাপন বাবদ আয়ে আপত্তি কেন?
বিশ্বের অনেক বড় বড় মোটিভেশনাল স্পীকার ভিডিওতে বিজ্ঞাপন প্রচারের অনুমতি দেয় না।  শ্রোতা-দর্শকদের মনোযোগ নষ্ট হতে পারে এই বিবেচনায় তারা কোটি টাকা আয়ের লোভ ত্যাগ করে। আপত্তির প্রথম কারণ বঙ্গবন্ধু বা নেত্রীর বক্তব্য কিংবা মুক্তিযুদ্ধ সংশ্লিষ্ট অডিও/ভিডিওর মূল লক্ষ্য জনগণের মাঝে যেন তা পৌঁছে। এজন্য অনেকে বিজ্ঞাপন বাবদ অর্থও খরচ করে থাকে। আর এই ক্ষেত্রটিকে আরেক পক্ষ পরিণত করছে বাজারে। 
বিটিভি একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান। সরকার সংশ্লিষ্ট বিষয় প্রচার করাই এর লক্ষ্য। আমি বা আপনি চাইলেই বিটিভিতে যা ইচ্ছা তা-ই বলতে পারবো না। কিন্তু টাকা আয়ের জন্য বিটিভি তাদের অনলাইন কন্টেন্টসে সেই সুযোগই দিতে যাচ্ছে উন্মুক্তভাবে। ফিল্ম আর্কাইভের কপিরাইটেড ভিডিওর মনিটাইজেশন রাইটও তারা দাবি করছে। আবার বলছি - শুধু কপিরাইট নয়, মনিটাইজেশন রাইট। 


একটি বাণিজ্যিক চ্যানেল এটি করতে পারে। বিটিভিও বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে আয় করার সিদ্ধান্ত নিতে পারে। কিন্তু তা কোনোভাবেই বঙ্গবন্ধু বা নেত্রীর ভিডিও হতে পারে না। 


আপত্তির দ্বিতীয় ও প্রধান কারণ এড চাঙ্ক বিক্রি করায় যেকেউ চাইলেই বঙ্গবন্ধু বা নেত্রী বিরোধী বক্তব্যের ভিডিও বিজ্ঞাপন প্রচার করতে পারবে। যেকেউ চাইলেই মনিটাইজ করা যেকোনো পেইজে বিজ্ঞাপন প্রচার করতে পারে।


বিটিভি অন্যান্য চ্যানেলের মতো বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত হতে পারে কিনা - এ প্রশ্নের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে বিটিভির আয় কে বা কারা নিচ্ছে। কিভাবে নিচ্ছে? এর নিয়ন্ত্রণ কি বিটিভির হাতে নাকি কোনো ব্যক্তি বা গ্রুপের অধীনে! এই আয়ের প্রাপক বাংলাদেশ সরকার। সরকারের কোন একাউন্টে এ টাকা যাচ্ছে? বাংলাদেশ টেলিভিশন নামের পেইজটি চালাচ্ছে কারা?


কোন ধরনের বিবেকহীন প্রতারকরা এই পেইজ চালাচ্ছে যে বঙ্গবন্ধু ও নেত্রীর ভাষণকেও তারা টাকার বিনিময়ে যার-তার হাতে তুলে দিয়েছে?


প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ দেখার সময় দেইল্লার ওয়াজের বিজ্ঞাপন প্রচার করলে আপনার কি প্রতিক্রিয়া হবে?

 


আবদুল্লাহ হারুন জুয়েল 
লেখক, কলামিস্ট 

 


 

Daily J.B 24 / নিউজ ডেস্ক

সম্পাদকীয় বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ