• ঢাকা
  • রবিবার, ২৩ মাঘ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ; ০৫ ফেরুয়ারী, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ

Advertise your products here

পিছন দরজা দিয়ে সম্ভাব্য সাইবার হামলা প্রতিহত করতে প্রস্তুত থাকুন। 

তৈমুর মল্লিক
জয় বাংলা ২৪ ; প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ আগষ্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ১১:৪৫ এএম
পিছন দরজা, সম্ভাব্য সাইবার হামলা,  প্রতিহত করতে প্রস্তুত থাকুন , সাইবার ক্রাইম , প্রধানমন্ত্রী
ফাইল ছবি


বিএনপি, জামাত সহ সকল চক্রান্তকারীরা চক্রান্ত করে #সরকার তথা #শেখ_হাসিনাকে পর্যদুস্ত করার জন্য নিজের দেশকে এরা বাইরের আগ্রাসী শক্তির নিকট বিক্রি করতে পারে সেটার প্রমান আমরা অনেক ভাবেই পেয়েছি। কিন্তু দেশের সরকার, জনগনের সরকার, মা মাটি মানুষের সরকার, উন্নয়নের সরকার তথা শেখ হাসিনা সরকার #বিএনপি সহ সকল চক্রান্তকারীদের প্রতিহত করে দেশকে বিশ্বের সামনে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে যা করার তার সবটাই করছে এবং করেছে। 


এই বিষয়টা এখন পরিস্কার, সাম্মুখ ভাগ দিয়ে আক্রমনের সম্ভাবনা নেই, বা তাদের সেই সক্ষমতা নেই। কারন তারা জনগন দ্বারা নির্বাসিত। ঠিক এই কারণে প্রতিহিংসার পরিপূর্ণ এই সকল চক্রান্তকারী গোষ্ঠি - পিছন দরজা দিয়ে হামলা চালাবেনা, বা তারা বসে থাকবে, বা তারা অলরেডি মাঠে নেই এটা ভেবে বসে থাকলে হবে মারাত্মক ভূল।  

আর পিছন দরজা দিয়ে হামলার ব্যাপকতা বর্তমান বিশ্বে সবচেয়ে মারাত্মক ও ক্ষতিকর। 
যার নাম সাইবার হামলা। 

মানুষ দাঁড়িয়ে থাকবে, রক্তপাত হবে না কিন্তু পরবর্তীতে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষগুলো, দাঁড়িয়ে থাকা দেশ অটোমেটিক মাটিতে বসে পড়তে বাধ্য। 

আর তাই সম্ভাব্য সাইবার হামলা প্রতিহত করার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে, দেশের সকল প্রযুক্তি খাতকে সজাগ থাকতে হবেই। 

১। বাংলাদেশ ব্যাংক সহ সকল ব্যাংক, বীমা, অর্থাৎ অর্থকরী সকল প্রতিষ্ঠান, 
২। সেনাবাহিনী
৩। এয়ারফোর্স 
৪। নৌবাহীনি সহ দেশের সকল প্রতিরক্ষা বাহিনী 
৫। আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা 
৬। গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রনালয় 
৭। গোয়েন্দা বিভাগ 
৮। দেশে বর্তমান সকল মেগাপ্রকল্প 
৯। পারমানবিক চুল্লি 
১০। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট ১ এর সকল দিক
১১। বিদ্যুৎ বিভাগ 
১৪। রপ্তানি মূখি সকল প্রতিষ্ঠান 
১৫। আমদানিমুখি সকল গুরুত্বপূর্ণ দিক ইত্যাদি।


 
ইতিপূর্বে আমরা বাংলাদেশ ব্যাংকে সাইবার হামলায় পতিত হয়েছিলাম। যার হাত ধরে বিপুল পরিমাণ অর্থ অন্যহাতে চলে গেছে।  যা নিয়ে দেশে মানুষের মনে কম চাপ পড়েনি।  
একটু লক্ষ্য করলে দেখা যাবে বাংলাদেশ ব্যাংকে সাইবার হামলা ছিলো ফিলিপাইনের মতো দেশের দরজা দিয়ে। আর তাই সংশ্লিষ্ট মহলকে সেই সকল দেশের দিকে নজর রাখা অবশ্যই উচিত। 
পশ্চিমা দেশ বা ইউকের মতো দেশথেকে সাইবার হামলা চালানো হবে বলে অন্তত আমার মনে হয়না, কারণ এই ধরনের হামলার দায় নিয়ে তারা নিজেদের পরিচিতি দেবে বলে মনে হয় না।  তবে তাদের সাইবার দলের পরিস্কার মদত থাকবে এতে সন্দেহ নেই। 

আর তাই 

 

১। ফিলিপাইন
২। মালয়েশিয়া
৩। থাইল্যান্ড 
৪। কোরিয়া 
৫। সিঙ্গাপুর 
৬। পাকিস্তান 

 

ইত্যাদি দেশের মতো সকল দেশকে প্রাধান্য দিতে হবে বলে মনে করি। সেই সাথে বাংলাদেশের সাইবার ক্রাইম যে সকল ইউনিট আছে সে সকল ইউনিট মোটেও দুর্বল নয় বলেই মনেকরি । 
সমগ্র বিশ্বে সাইবার হামলার সকল ইউনিটের রয়েছে একে অন্যের সাথে গোপন নেটওয়ার্ক। যারসাথে বাংলাদেশের সাইবার হামলা পরিচালনা দল অবশ্যই সম্পর্কযুক্ত।  যে সকল তথ্য পাওয়া যায়, সেখান থেকে এটা প্রতিয়মান হয় যে, অর্থবিত্তে স্বয়ংসম্পূর্ণ জামাত নামক দলটি সাইবার দুনিয়ায় ক্রাইম ইউনিট গঠনে বেশ জোরেসোরে স্থান করে নিয়েছে। জ*মা*ত বিগত বছর সমূহে সকল রিসোর্স ব্যাবহার করে, বিদেশি মদতে গড়েতুলেছে সাইবার ইউনিট। 
তাদের এই জ্ঞান, তাদের এই বিধ্বংসী রূপ শেখ হাসিনা সরকারের বিপক্ষে ব্যাবহার হবে এটা নতুন কোন বিষয় নয়। রাজনৈতিক ভাবে দেউলিয়া #বিএনপি জ*মা*তকে দিয়ে বা সাথে নিয়ে নিজেদের জনবল সংযুক্ত করে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার দায় মেটাতে সচেষ্ট হবেই। 


বলতে বাঁধা নেই সকল চক্রান্তকারী গোষ্ঠি অলরেডি দীর্ঘদিনের পক্রিয়ায় সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অর্গান সমুহে নিজেদের প্রতিনিধি স্থাপন করেছে। যার সুযোগ করে দিয়েছে আওয়ামীলীগ নামক দলটির দুর্নীতিবাজ আমলা, মন্ত্রী, এমপি এরাই।  নিজেদের পায়ে নিজেরায় কুড়াল মেরে রেখেছে দেশের স্বার্থের বিপরীতে গিয়ে। অবৈধ অর্থের হাতছানিতে।  বাংলাদেশ ব্যাংকের সুইপ কোড পেতে তাই তাদের কোন সমস্যাই হয়নি। 

 

১। বাংলাদেশ সরকারের এই মুহুর্তে VOIP ব্যাবসা যারা করে তাদের দিকে নজর দেয়া

২। প্রত্যেকটি অর্গানের ICT বিভাগের মানুষদের কোন ছাড় না দিয়ে ভেরিফাই করা। 

৩। প্রত্যেকটি অর্গানের সাইবার সাইটের নিরাপত্তা দেয়াল কয়েক স্তরে উন্নিত করা।

৪। প্রত্যেকটি অর্গানের ICT বিভাগকে একত্রিত করে একটি গেট ওয়ের মাধ্যমে জবাবদিহিমূলক কোন বিভাগের আওতায় নিয়ে আসা। 

৫।সরাসরি #মাননীয়_প্রধানমন্ত্রী #শেখ_হাসিনার নিযুক্ত প্রতিনিধি দল জবাবদিহি মূলক ICT বিভাগ এবং #গেটওয়ে_প্রতিবেদন গ্রহনকারী হিসাবে কাজ করার ব্যাবস্থা অতিদ্রুত গ্রহন করা।  

৬। দেশের অভ্যান্তরে  সাইবার ক্রাইম ইউনিট সনাক্ত করা। 

৭। সরকারি ভাবে যোগ্যতা নির্ভর সাইবার ইউনিট তৈরি করে, গোপনে থাকা সাইবার ক্রাইম ইউনিটকেই কাউন্টার এটাক করা এবং হ্যাক করার ব্যাবস্থা গ্রহন করা। 

 

প্রশ্ন হলো কোথায় পাবেন #মাননীয়_প্রধানমন্ত্রী সেই বিশ্বস্ত যোগ্যতা সম্পন্ন মানুষ! কাকে বিশ্বাস করবেন!  বর্তমান ICT শাখা নিজেরাই পারেনি, সোশ্যাল মিডিয়ার আওয়ামী পন্থি মানুষদের সাইবার নিরাপত্তা দিতে।পারেনি সোশ্যাল মিডিয়া ব্যাবহারে ব্যাক্তিগত সরকারী দলিল বাধ্যতামূলক করতে। সেখানে তারা ব্যাবসা খুঁজেছে, প্রধানমন্ত্রীকে সম্ভবত ব্যাবসায়ী হিসাব বুঝিয়েছেন। 

 

ফ্যাক্ট চেকারের দায়িত্বে থাকা ব্যাক্তিদের সাথে জামাতের সাথে সংপৃক্ততা খুজে পাওয়া গেছে এটা এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। কিন্তু বাংলাদেশ ICT এটা বোঝাননি যে, বিভিন্ন সরকারি অর্গান সফটওয়্যার নির্মানে কত টাকা আত্মসাত করছে, যে সফটওয়্যার এর কথা বলা হচ্ছে সেটার মেইনটেইন করার নামে কতটাকা আত্মসাৎ হচ্ছে। আদেও সেই সফটওয়্যার সফল ভাবে চলছে কি না। 

সরকার কোন প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দিলে তারাই নিজেদের আখের গোছাতে সফটওয়্যার কেন্দ্রিক জটিলতা ইচ্ছাপূর্বক তৈরি করে সাধারণ মানুষের পকেট থেকে কত টাকা কাটছে।  উদাহরণ দিলে আমরা রেলবিভাগের সাম্প্রতিক সময়ের গঠনাপ্রবাহ সামনে আনতে পারি।  

আর তাই #শেখ_হাসিনা ব্যাক্তি নির্বাচনে বিপাকে পড়বেন সেটা বলাই যায়। আর যদি তিনি নিজে তদারকি করে বিষয় বাস্তবায়নে হাত দেন তাহলেও হবে প্রচণ্ড বাঁধাগ্রস্ত। নানা জন নানা ভাবে তাকে বোঝাবে নেগেটিভ ইফোর্ট কি কি হতে পারে। অনেকটা আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় পড়বে উক্ত সকল বষয়।  করা হবে গড়িমসি। 
অথচ আগামী নির্বাচনের আগে এখন প্রতিটি দিন অতি গুরুত্বপূর্ণ। 

 

সেই লক্ষ্য নিয়ে আরো ২/১ টি কথা বলতে চাই। 

ডিস্ট্রিবিউটেড ডিনায়েল অব সার্ভিস (ডি ডস) সাইবার আক্রমণ দেখা গেছে সাম্প্রতিক সময়ে, এমন একটি বিষয়  জানিয়ে সরকারের কম্পিউটার ইনসিডেন্ট রেসপন্স টিম (বিজিডি ই-গভ. সার্ট)। পাশাপাশি তারা নিজেরাও সতর্ক রয়েছে বলে জানা যায়। 

হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার স্থাপন বা হালনাগাদ করে সঠিক ‘অ্যান্টি–ডি ডস প্রটেকশন থ্রেশোল্ড’ লিমিট সেট করার জন্য সুপারিশ করেছে তারা। অথচ এই "ডি ডস" কে বরাবর হেসে উড়িয়ে দেয় অনেকেই। কিন্তু যারা হাসছে তারা কি দরজা উম্মুক্ত রাখতে হাসছে?  

যাইহোক- 

 

১। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, কতটা সক্ষম সরকারের কম্পিউটার ইনসিডেন্ট রেসপন্স টিম (বিজিডি ই-গভ. সার্ট)? 

২। সাইবার হামলা ঠেকাতে পর্যাপ্ত রিসোর্স কি রয়েছে সরকারের হাতে? 

৩। সঠিক আইন আছে কি এদের প্রতিরোধের?  

 


সম্ভবত নেই। তাহলে আমাদের বর্তমান ICT বিভাগ আসলে কোন দিকে দৃষ্টি দিয়ে রেখেছে? তারাকি চাইলেই প্রযুক্তির এই শক্তিশালী বলয় তৈরি করতে?  না করার পিছনে কারণ যা কিছুই হতে পারে, আমি নাইবা বললাম।  

আমরা কোন সফটওয়্যার কাগজে আছে বাস্তবিক নেই, এমন অনেক কথা শুনি, সেই সাথে শুনি কোটি কোটি টাকা সফটওয়্যার নির্মানের নামে বিলুপ্ত করার কথা। আগ্রহ যদি অর্থ কেন্দ্রিক হয়, তখন নিরাপত্তা বলয় থাকলো কি থাকলো না, কি যায় আসে তাতে! 

বাংলাদেশ সরকারের সেই মহলকে বলবো, বাংলাদেশ থাকলেতো অর্থলোপাট করতে পারবেন তাইনা?  দেশটাই যদি না থাকে, তালেবান আফগান হয়ে যায় তখন কি লোপাট করবেন?  অন্তত সেই স্বার্থে সাইবার হামলা ঠেকাতে যা করনিয় সেটা করুন।  

 

মোঃ তৈমুর মল্লিক 
কলামিস্ট

 

 

জয় বাংলা ২৪ / নিউজ ডেস্ক

তথ্যপ্রযুক্তি ও বিজ্ঞান বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ