• ঢাকা
  • রবিবার, ১২ চৈত্র ১৪২৯ বঙ্গাব্দ; ২৬ মার্চ, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ

Advertise your products here

Advertise your products here

ঢাকা  রবিবার, ১২ চৈত্র ১৪২৯ বঙ্গাব্দ;   ২৬ মার্চ, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ

যোগ্যতাহীন সুযোগ সন্ধানীদের কাজই হলো - ধুরন্দর ও কূটকৌশলে মোড়ানো

তৈমুর মল্লিক
Daily J.B 24 ; প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ জুন, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ১২:১৯ পিএম
পদ্মা সেতু , ইসলাম , চক্রান্তের প্রথম ধাপ , বাংলাদেশ
ফাইল ছবি

কোন কিছুই উদ্দেশ্যবিহীন নয় - তবে নিশ্চিত ভাবে সেই উদ্দেশ্যে আর যাই থাক সততা নেই । হ্যাঁ, অনেকেই ধর্ম বলে সেটাকে ভিন্ন ভাবে দেখবে - কিন্তু দেখার আগে ফিরে যান ২ দিন পিছনে । সেখানে দেখুন একটি বিবৃতিতে কি লেখা আছে। 
আমিযদি সারাংশ বলি, তাহলে সেখানে দ্বীনি শিক্ষা প্রসারের জন্য পদ্মা সেতু কার্যকরি একটি এলিমেন্ট সেটাই সামনে এনেছে ইসলামি সমাজের নেতৃস্থানীয় কেউ কেউ । 

বিষয়টিকে অত্যান্ত সাদা ভাবে নিলে নেয়া যায় । কিন্তু সাদার পরিবর্তে কালো তখনই সামনে আসে , যখন এই পদ্মা সেতু নির্মানে শুরু থেকে শেখ হাসিনার বিরোধিতা করে আসছে বিএনপির সাথে ইসলামি দলগুলো । যদিও নিভৃতে কিন্তু মূল অর্থায়নে তারাই কাজ করেছে বলেই ধারণা । তাহলে যে পদ্মা সেতু শুরু থেকে ইসলামি সমাজের একাংশ নয়, বরং অনেক অংশই বিরোধিতা করেছিলো , তখন তাদের মনে হয়নি যে, এই সেতু হলে তারা তাদের ইসলামি ধ্যান ধারণা সহজে পৌছে দিতে পারবে দেশের দক্ষিণ অঞ্চলে (আপাতত আমি শুদ্ধ ধর্ম চর্চাকেই ধরছি) । 
তাদের যখন সেই সময়ে মনে হয় নি , এবং আজকে যখন সেটাই মনে হলো- তার মানে এই দুইয়ের সময়ের যে পার্থক্য, ভাবনার যে পার্থক্য তার মধ্যে রয়েগেছে যথেষ্ট সন্দেহ । 

পদ্মা সেতু খুলে দেবার পরে প্রথম দিনে আমরা সেতুতে নামাজ আদায় করতে দেখলাম অনেককেই , সেই সাথে তাদের সেলফিও তুলতে দেখলাম । তাহলে সহজেই প্রশ্ন জাগে সত্যি কি সেখানে নামাজ ছিলো? নাকি নামাজের স্থানে নামাজের অভিনয় ছিলো ? লোক দেখানো ইবাদাত আল্লাহ কতটা রাগান্বিত ভাবে দেখে সেটা আমার চেয়ে তারা আরো ভালো জানেন । তারপরেও তারা সেটাই করেছে । অথচ সারাদেশে খোঁজ নিন, কোন একটা মসজিদে পদ্মা সেতু সম্পর্কে কোন প্রকার দোয়া করা হয়েছে কি না । কেউ শুকরানা নামাজ আদায় করেছে কি না । নিশ্চিত কেউ করেনি । তাহলে সেতুতে কেন ? 

অনেকে এটাকে শোকরানা নামাজ হিসাবে দেখতে চাইছেন । আসলে তারা চক্ষু লজ্জার খাতিরে না পারছে সঠিক কথাটা বলতে , না পারছে তাদের শক্ত ভাবে সমর্থন করতে । 
সে যাইহোক - তারা আসলে পদ্মা সেতুতে নামাজ আদায় করে কি বোঝাতে চেয়েছেন ? সেটাই প্রশ্ন । 

প্রশ্নের উত্তর খোজার আগে বলতে চাই - ধানের বাজারে কেউ ওল কচু বিক্রি করতে বসে না , মাছের বাজার বসে না । যার যার একটা স্থান কাল পাত্র আছে এবং থাকে । 

আমার ধারণা তাদের যে অযোগ্য মেধা এবং সুযোগসন্ধানী চরিত্র সেটা সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রিত হয়েছে মানুষের আবেগকে ব্যাবহার করে ধর্মকে ঢাল হিসাবে নিয়ে পদ্মা সেতুর ইমেজকে ব্যাবহার করা । এবং ২ দিন আগে যে বিবৃতি দেয়া হয়েছে, সেটাকেই বাস্তবায়ন করতে কার্যধারার প্রথম ধাপ তৈরি করা । তারা একটা ক্ষেত্র তৈরি করতে চেয়েছে , আপনারা যদি আগামীতে এই পদ্মা সেতু দিয়ে ইসলামি লেবাস ধারী কোন দলকে মাথায় কাপড়ের বস্তা, কাঁধে ব্যাগ নিয়ে পায়েচলে পার হতে দেখেন সেখানে অবাক হবার কিছুই থাকবে না । অর্থাৎ আমি চিল্লায় যাওয়ার সময় বা বিশ্ব ইস্তেমাতে অংশ নেবার সময় যে চিত্র দেখে থাকি । আপনারা নিশ্চিত থাকুন - এরাই আগামীতে বিশ্ব ইজতেমায় বা কোন অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এই পদ্মা সেতুর দরজায় এসে দাঁড়াবে, আইন বাঁধা দিলে আন্দোলন করে টোল বন্ধ করবে এবং জ্বালাও পোড়াও চালাবে । আগামীতে এসব কিছুর রাস্তা নির্মানে পদ্মা সেতুতে ছিলো এই লোক দেখানো নামাজ ব্যাবস্থা । যা রীতিমত ষঢ়যন্ত্রের অংশ ছাড়া আর কিছুই নয় । 

অনেকে বলতে পারেন , আপনি ধর্ম বিদ্বেষী, কাফের, নাস্তিক ইত্যাদি । তা না হলে এত দিকে অনিয়ম হলো, সেসব কিছু নিয়ে না লিখে ইসলাম নিয়ে কেন লিখলেন । 
আমি তাদের উত্তর দিয়ে রাখি - অন্য যে অনিয়ম হয়েছে , সেসবই আইনের হাতে পড়ে কমে যাবে , আস্তে রিমুভ হয়ে যাবে । কিন্তু এই লোক দেখানো নামাজের মাধ্যমে তৈরি রাস্তা কোন আইনেই থামবে না, বরং ডালপালা গজাবে এবং হিংস্র হয়ে উঠবে । 

সরকারের প্রতি অনুরোধ - বিষয়টা হাল্কা ভাবে নেবার কিছুই নেই - বরং এখন থেকে সতর্ক না হলে সেটা হতে পারে বুমেরাং । 


মোঃ তৈমুর মল্লিক 
কলামিস্ট 
সাধারণ সম্পাদক 
দুর্জয় বাংলা সাহিত্যো ও সামাজিক ফাউন্ডেশন  

Daily J.B 24 / নিউজ ডেস্ক

সম্পাদকীয় বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ