• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ১৫ চৈত্র ১৪২৯ বঙ্গাব্দ; ৩০ মার্চ, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ

Advertise your products here

Advertise your products here

ঢাকা  বৃহস্পতিবার, ১৫ চৈত্র ১৪২৯ বঙ্গাব্দ;   ৩০ মার্চ, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ

নেতা ওবায়দুল কাদের-মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের আর সাধারন সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের মধ্যে পার্থক্য

আবুল হোসেন রিপন 
Daily J.B 24 ; প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ০৫ মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ০৯:৪৬ পিএম
ওবায়দুল কাদের,  সাধারন সম্পাদক , রাজনীতি, নোয়াখালী

নোয়াখালীতে মির্জা কাদেরের সাথে একরাম চৌধুরী এমপির দ্বন্ধ শুরু হলে ফেনীর আওয়ামীলীগ নেতৃত্ব সরাসরি একরাম চৌধুরীর পক্ষে অবস্থান করেন।সে সময় একরাম চৌধুরীর পক্ষ নিয়ে মির্জা কাদেরের বাপ মা সহ চৌদ্ধগোষ্টি উদ্ধার করে প্রকাশ্য জনসভা ও ফেসবুক লাইভে।আমি সেসময় ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে বলেছি যে যাহা বলুক দিন শেষে মির্জা কাদের ও ওবায়দুল কাদের এক মায়ের পেটের দুই সন্তান।আজকে আমরা কি দেখলাম?


আমরা দেখলাম মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের নোয়াখালী আগমনে মির্জা কাদের সব দেখাশুনা করছে আর আমাদের ফেনীর নেতৃবৃন্দ কোম্পানীগঞ্জে উপস্থিত হয়েছেন।আমি যদি রাজনীতি করতাম মা বাপ তুলে গালিগালাজের পর ভুল স্বীকার করা ছাড়া মির্জা কাদেরের মুখোমুখি হতামনা।
মির্জা কাদের ও তার সমর্থকদের  উপর হামলার জন্য অস্ত্রবাহি কয়েকটি মাইক্রোবাস বিপুল নব্য আওয়ামী নামধারী সৈনিক আমাদের চোখের সামনে দিয়ে সাহেবেরঘাট ব্রিজ পার হচ্ছিলো তখন তাদের দলনেতাকে বলেছি এসব বাজে ফরমায়েশী কাজের জন্য তোমাদের একসময় আফসোস করতে হবে।নোয়াখালীর গন্ডগোলে যার পক্ষ নিয়ে তোমরা ক্যাডারগিরি করতে যাচ্ছো সে একটা সময় তোমাদের গলার কাটা হবে।
তবে একটা কথা বলে রাখছি মাঠের রাজনৈতিক নেতা ওবায়দুল কাদের-মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের আর আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের মধ্যে আকাশ পাতাল তফাৎ রয়েছে।রাজনৈতিক নেতা ও মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সফলতার নাম ঠিক একইভাবে সাধারন সম্পাদক ওবায়দুল কাদের একটি অসফল ব্যর্থতার নাম।সাধারন সম্পাদক হওয়ার পর বৃহত্তর নোয়াখালী(ফেনী,নোয়াখালী,লক্ষীপুর) সব দিক থেকে আওয়ামীলীগের দুর্গে পরিনত হওয়ার সুযোগ ছিলো,তৃনমূলের দুর্দিনের নেতাকর্মীরা মুল্যায়িত হওয়ার প্রত্যাশা ছিলো কিন্তু কোনটাই হয়নি।বৃহত্তর নোয়াখালীতে দুর্দিনের তৃনমূলের নেতাকর্মী নামে অবশিষ্ট আর কিছু নেই।তারা ওবায়দুল কাদেরের নিস্ক্রিয়তায় খন্দকার মোস্তাক চরিত্রের সুবিধাভগীদের ঠেলায় বিলীন হয়ে গেছে। আর ওবায়দুল কাদের এই বাস্তব সত্যটা টের পাবে সাধারন সম্পাদকের পদ চলে যাওয়ার পর আগামী বছরের জাতীয় নির্বাচনের আগে।নিজেদের সুবিধার জন্য ঘন ঘন নেতা বদলানো যাদের মজ্জাগত অভ্যাস তারা যে একটা সময়ে ওবায়দুল কাদেরের পক্ষে থাকবেনা সেটা আমি দায়িত্ব নিয়ে বলতে পারি।ওবায়দুল কাদের যদি সুস্থ্য থাকে ও বেঁচে থাকে এবং নোয়াখালী-৫ আসন থেকে নির্বাচন করে তবে আমি দায়িত্ব নিয়ে বলছি উনি পরাজিত হবেন।উনার পরাজয়ের কারন হবে দলের তৃনমুলকে ধ্বংস করে দেওয়ার জন্য।ভোট কেন্দ্রে পাহারা দেওয়ার জন্য ফেনী থেকে উনি কাউকে পাবেনা কারন নির্বাচন আগের স্টাইলে হওয়ার কোন সম্ভবনা নেই।তবে একটা কথা ধ্রুব সত্য আর সেটা হলো মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বৃহত্তর নোয়াখালীর যোগাযোগ অবকাঠামেতে যে উন্নয়ন কাজ করেছেন তার জন্য বৃহত্তর নোয়াখালীর আপামর জনতা তাকে আজীবন মনে রাখবে কারন স্বাধীনতার ৫০ বছরের ইতিহাসে তার মতো উন্নয়ন অন্য কোন মন্ত্রী এমপি করতে পারেনি।


শেষে বলতে পারি ওবায়দুল কাদের যদি দলের সাধারন সম্পাদক পদ ছেড়ে দিয়ে তৃনমূল নেতাকর্মীদের সক্রীয় করতে পারেন তাহলে  নির্বাচনের আগে আগের ভরা যৌবনের জনপ্রিয়তায় ফিরতে পারবেন।সাধারন সম্পাদক ওবায়দুল কাদের হাতেগোনা সুবিধাবাদির কাজে লাগে কিন্তু রাজনৈতিক নেতা ওবায়দুল কাদের হাজার হাজার দলীয় নেতাকর্মীর কাজে লাগে এটাই চরম বাস্তবতা।এই সত্যটুকু তিনি যতই দ্রুত উপলদ্ধি করবেন তার জন্য ততটা মঙ্গল।


আরেকটা কথা ঈদের আগে ওবায়দুল কাদেরের ঈদ সেলামি পাওয়া সাংবাদিক মহলের ৯৫% সাংবাদিকের সমর্থন আগামী নির্বাচনের আগে ওবায়দুল কাদের পাবেনা কারন তখন সবাই সবার দলের জন্য কাজ করবে।অনেকে সেলামি পাইলেও থাকবে আর না পাইলেও থাকবে।
আমাদের গ্রামের যেসব আওয়ামী নেতাকর্মী ও আমার আত্মীয় স্বজন গত ১৮ সালে নির্বাচনেরর ভোটগ্রহনের দিন কোম্পানীগঞ্জের ছোটধলী কেন্দ্রসহ কয়েকটি ভোট কেন্দ্র পাহারা দিয়েছি তাদেরকে যদি ওবায়দুল কাদের খামে ভরা কিছু সেলামি প্রদান করেন তবে তারা অনেক খুশি হবে।এরাই আপনার প্রকৃত শুভাকাঙ্খী অথচ আপনি কখনো তাদের খোঁজখবর নিতে পারেননি তবে নিয়েছেন এবং নিচ্ছেন যারা সাধারন সম্পাদক হওয়ার আগে প্রকাশ্যে আপনার বিরোধী শিবিরে ছিলো।

 

 

 

Daily J.B 24 / জয় বাংলা২৪ নিউজ ডেস্ক

খোলা-কলাম বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ